ব্লগ

Google Business Profile: বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার জন্য ধাপে ধাপে নির্দেশিকা

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Google Business Profile: বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার জন্য ধাপে ধাপে নির্দেশিকা

কেউ Google-এ “near me” লিখে বা এলাকার নাম দিয়ে কোনো সেবা খুঁজলে প্রায়ই সার্চ ফলাফলের ওপরে একটি ম্যাপ আর কয়েকটি ব্যবসার তালিকা দেখা যায়। সেখানে দেখা যাওয়ার মূল মাধ্যম হলো Google Business Profile (আগের নাম Google My Business)। এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়, তবু অনেক প্রতিষ্ঠান প্রোফাইল অসম্পূর্ণ রাখে বা একেবারেই তৈরি করে না।

ধাপ ১: শুরু করার আগে তথ্য গুছিয়ে নিন

  • ব্যবসার আসল নাম—সাইনবোর্ড, ফেসবুক পেজ আর কাগজপত্রে যেভাবে লেখা আছে ঠিক সেভাবে।
  • পূর্ণ ঠিকানা, অথবা যদি আপনি গ্রাহকের কাছে গিয়ে সেবা দেন, তাহলে কোন কোন এলাকায় সেবা দেন।
  • ফোন নম্বর, ওয়েবসাইট (থাকলে) আর খোলার সময়।
  • ব্যবসার সঠিক ক্যাটাগরি, যেমন “Restaurant”, “Dentist” বা “Interior designer”।

ধাপ ২: প্রোফাইল তৈরি করুন

ব্যবসার জন্য ব্যবহৃত Gmail দিয়ে business.google.com-এ যান এবং নতুন প্রোফাইল তৈরি করুন। প্রথমে সার্চ করে দেখুন আপনার ব্যবসার কোনো প্রোফাইল আগে থেকেই আছে কি না—থাকলে নতুন না বানিয়ে সেটি দাবি (claim) করুন। একই ব্যবসার দুটি প্রোফাইল থাকলে সমস্যা হতে পারে।

ধাপ ৩: নামের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলুন

নামের সাথে কিওয়ার্ড জুড়ে দেবেন না—যেমন “ABC Dental – Best Dentist in Dhaka”। Google-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী নাম হতে হবে বাস্তব জগতে আপনার ব্যবসা যে নামে পরিচিত, ঠিক সেটাই। নিয়ম ভাঙলে প্রোফাইল স্থগিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ধাপ ৪: ঠিকানা নাকি সেবার এলাকা?

গ্রাহক যদি আপনার দোকান বা অফিসে আসেন, ঠিকানা দেখান। আর যদি আপনি গ্রাহকের কাছে গিয়ে সেবা দেন (যেমন ইলেকট্রিশিয়ান, ক্যাটারিং) এবং বাসা থেকে কাজ করেন, তাহলে ঠিকানা লুকিয়ে শুধু সেবার এলাকা (যেমন ঢাকা উত্তর, বসুন্ধরা) দেখানোই সঠিক।

ধাপ ৫: ভেরিফিকেশন

প্রোফাইল প্রকাশ হওয়ার আগে Google যাচাই করে যে ব্যবসাটি আসলেই আপনার। পদ্ধতি ব্যবসাভেদে আলাদা হতে পারে—ফোন, ইমেইল, অথবা মোবাইলে একটানা ভিডিও রেকর্ড করে দেখানো (এলাকার চিহ্ন, ব্যবসার সরঞ্জাম আর আপনি যে ব্যবসাটি পরিচালনা করেন তার প্রমাণ)। Google যে পদ্ধতি দেখায় সেটিই অনুসরণ করুন।

ধাপ ৬: প্রোফাইল সম্পূর্ণ করুন

  • বর্ণনা: আপনি কী সেবা দেন, কাদের জন্য, কোন এলাকায়—সহজ ভাষায়।
  • সেবা ও দাম: প্রধান সেবাগুলো আলাদা করে যুক্ত করুন।
  • খোলার সময়: ছুটির দিন ও বিশেষ সময়সূচিও আপডেট রাখুন।
  • ছবি: দোকানের বাইরে-ভেতরে, পণ্য, টিম আর কাজের আসল ছবি দিন।
  • ওয়েবসাইট ও WhatsApp: যোগাযোগের সহজ পথ রাখুন।

ধাপ ৭: রিভিউ চাওয়া ও উত্তর দেওয়া

সন্তুষ্ট গ্রাহকদের প্রোফাইলের রিভিউ লিংক পাঠিয়ে সৎ মতামত দিতে অনুরোধ করুন। টাকা বা উপহারের বিনিময়ে রিভিউ নেওয়া বা ভুয়া রিভিউ দেওয়া Google-এর নীতির বিরুদ্ধে—এতে প্রোফাইলের ক্ষতি হতে পারে। ভালো-খারাপ সব রিভিউয়ের ভদ্রভাবে উত্তর দিন; নেতিবাচক রিভিউয়ের শান্ত ও সমাধানমুখী উত্তর নতুন গ্রাহকের কাছে আপনার পেশাদারিত্বই দেখায়।

ধাপ ৮: সব জায়গায় তথ্য এক রাখুন

প্রোফাইল, ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ আর অন্যান্য ডিরেক্টরিতে নাম, ঠিকানা আর ফোন নম্বর হুবহু একই রাখুন। তথ্য মিললে Google আপনার ব্যবসার তথ্যকে আরও নির্ভরযোগ্য মনে করে।

ধাপ ৯: নিয়মিত আপডেট দিন

নতুন অফার, নতুন পণ্য বা কাজের ছবি মাঝে মাঝে আপডেট হিসেবে পোস্ট করুন। সক্রিয় প্রোফাইল গ্রাহকের কাছে প্রতিষ্ঠানকে সচল ও নির্ভরযোগ্য হিসেবে তুলে ধরে।

উপসংহার

Google Business Profile রাতারাতি ফল দেয় না, কিন্তু সঠিক তথ্য, আসল ছবি, নিয়মিত রিভিউ আর আপডেট থাকলে স্থানীয় সার্চে আপনার ব্যবসা খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। প্রোফাইল সেটআপ বা লোকাল SEO বিষয়ে সহায়তার জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

WhatsAppচ্যাট করুন↗